মুন্সীগঞ্জ জেলার নামকরণ ও ইতিহাস:
মুন্সীগঞ্জের প্রাচীন নাম ছিল ইদ্রাকপুর।কথিত আছে, মোগল শাসন।আমলে এই ইদ্রাকপুর গ্রামে মুসী হায়দার হোসেন নামে এক ব্যক্তি ছিলেন।তিনি মোগল শাসকদের দ্বারা ফৌজদার নিযুক্ত হয়েছিলেন।অত্যন্ত সজ্জন ও জনহিতৈষী মুন্সী হায়দার হোসেনের নামে ইদ্রাকপুরের নাম হয় মুন্সীগঞ্জ।কারো কারো মতে জমিদার এনায়েত আলী মুন্সীর নামানুসারে মুন্সীগঞ্জ নামকরণ করা হয়েছে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী দিল্লির বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলমের কাছ থেকে ১৭৬৫ সালে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন।সে সময় মুন্সীগঞ্জ ঢাকা জেলার অংশ ছিল।ঢাকা কালেক্টরেটের আওতায় ১৯৪৭ সালে মুন্সীগঞ্জ মহকুমা সৃষ্টি হয় এবং ১ মার্চ ১৯৮৪ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলা ঘোষণা করা হয় ।
আয়তন:
৯৫৪.৯৬ বর্গ কিমি। অবস্থান: ২৩°২৩´ থেকে ২৩°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°১০´ থেকে ৯০°৪৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। সীমানা: উত্তরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলা, পূর্বে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা, পশ্চিমে ঢাকা ও ফরিদপুর জেলা।
দর্শনীয় স্থান :
- জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মস্থান,
- অতীশ দীপঙ্করের জন্মস্থান,
- রাজা শ্রীনাথের বাড়ি,
- ভাগ্যকুল জমিদার বাড়ি,
- রামপালে বাবা আদমের মসজিদ,
- হাসারার দরগা,
- সোনারং জোড়া মন্দির,
- পদ্মার চর,
- ইদ্রাকপুর কেল্লা,
- রাজা বল্লাল সেন ও হরিশচন্দ্রের দীঘি
- শ্যামসিদ্ধির মঠ,
- শুলপুরের গির্জা,
- শেখর নগর কালীবাড়ী,
- মেঘনা ভিলেজ টুরিস্ট গার্ডেন (গজারিয়া),
- আড়িয়াল বিল
পার্ক,বিনোদন ও প্রাকৃতিক স্থানঃ
- মেঘলা হলিডে রিসোর্ট,
- পদ্মা রিসোর্ট,
- মাওয়া রিসোর্ট,
লোকসংস্কৃতি:
দুর্গাপূজা, নববর্ষ, চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে যাত্রা, পালাগান, কবিগান, কীর্তনলীলা, বাউল গানের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। শ্যামসিদ্ধির মেলা এবং ঐতিহ্যবাহী ঝুলন মেলার প্রচলন রয়েছে। এছাড়া রথ যাত্রা, নৌকাবাইচ, লাঠি খেলা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
জলাশয় ও নদীনালা:
পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতি নদী উল্লেখযোগ্য।

No comments: